নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় আতঙ্ক
- আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ০১:২৪:৪২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ০১:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার:: সুনামগঞ্জ শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল জনজীবনে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। ব্যস্ত সড়ক থেকে আবাসিক এলাকার অলিগলি - সর্বত্রই বাড়ছে এসব যানবাহনের দাপট। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, মোড় নেওয়ার সময় গতি নিয়ন্ত্রণ না করা এবং ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর মতো ঘটনায় প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যানজট, যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বাগ্বিত-া এবং চালকদের একাংশের অসদাচরণ। ফলে শহরের সড়কে চলাচল করতে গিয়ে পথচারী, যাত্রী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। নাগরিকদের অভিযোগ, শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ রিকশায় ব্যাটারি ও মোটর সংযোজন করে দ্রুতগতির যান হিসেবে সড়কে নামানোর প্রবণতাও বেড়েছে। অথচ এসব যানবাহনের ব্রেকিং ব্যবস্থা, কাঠামোগত নিরাপত্তা ও চালকদের প্রশিক্ষণ পর্যাপ্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অটোরিকশা আটক কিংবা ব্যাটারির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা। সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার, নতুনপাড়া, কালীবাড়ি, জামাইপাড়া, ষোলঘর, হাসননগর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। কোনো কোনো চালক সড়কের মাঝখানে কিংবা মোড়ের কাছে হঠাৎ যান থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। এতে পেছনে থাকা যানবাহনকে আকস্মিকভাবে গতি কমাতে হচ্ছে, আবার কখনো পাশ কাটিয়ে যেতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে সংঘর্ষের আশঙ্কা। ব্যস্ত সময়ে এমন পরিস্থিতিতে যানজটও তৈরি হচ্ছে। স্কুল-কলেজের আশপাশ, বাজার, পথচারী পারাপারের স্থান ও ব্যস্ত মোড়গুলোতে ঝুঁকি আরও বেশি। বিশেষ করে দ্রুতগতির অটোরিকশা হঠাৎ সামনে চলে এলে অন্য যানবাহনের চালকদের তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ কমে যায়। সামনে থাকা যানকে পাশ কাটাতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, মোড় নেওয়ার সময় গতি না কমানো কিংবা হঠাৎ দিক পরিবর্তনের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সড়কে রিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, পণ্যবাহী যান ও পথচারীদের চলাচলের মধ্যে এসব অনিয়ম দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে। ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম বলেন, এখন রাস্তা পার হতেও ভয় লাগে। কখন কোন দিক থেকে দ্রুতগতির অটোরিকশা এসে ধাক্কা দেবে, বলা যায় না। কিছুদিন আগে ষোলঘর এলাকায় আমার মোটরসাইকেলে পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আমিও শরীরে আঘাত পাই। চালকেরা অনেক সময় অতিরিক্ত গতি তোলেন এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করেন। এসব আচরণ খুবই বিপজ্জনক। এছাড়া অনেক সময় অপ্রাপ্ত বয়স্করা এই অটোরিকশা চালান। এদের নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই নয়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চলাচলকারী যাত্রীদেরও ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি, ভাড়া নিয়ে তর্কে জড়ানো এবং যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। ভাড়া নির্ধারণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে কার্যকর তদারকি না থাকায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা শ্যামল রায় বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকেরা অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং অসদাচরণ করেন। দিন দিন শহরে এসব অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তিনি বলেন, শুধু রাস্তায় দু-চারটি ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করা কিংবা ব্যাটারির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং চালকদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। শহরবাসীর প্রত্যাশা, সুনামগঞ্জের সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলবে, তবে তা অবশ্যই নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে। চালকদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহনের নিরাপত্তা যাচাই, গতিসীমা নির্ধারণ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ এবং ট্রাফিক আইন কার্যকর করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ নিলে একদিকে যেমন অটোরিকশাচালকদের জীবিকা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ কমানোও সম্ভব হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ